
এরপর পত্যেক ফল হতে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের সহজ পথ অনুসরণ কর; ওপ উদর হতে নির্গত হয় নানা রংঙের পানীয়; যাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগমুক্তি। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
(সুরা: আন-নাহাল, আয়াত: ৬৯)
মৌমাছির বাসায় মোট তিন ধরণের মৌমাছি থাকে যথারিতি রানী মৌমাছি, পুরুষ মৌমাছি এবং শ্রমিক মৌমাছি। একটা চাকে বা বাসায় রানী মৌমাছি মাত্র একটা থাকে, আর রানী মৌমাছি পুরাটা কতৃত্ব করে। তার অধিনে থাকে সব শ্রমিক মৌমাছি। শ্রমিক মৌমাছি চলে যায় দূর দুরান্তে মধু সংগ্রহ করার জন্য, যাওয়ার পরে রানী মৌমাছি তাদেরকে যতক্ষন আদেশ না দেয় বা বার্তা না পাঠায় শ্রমিক মৌমিক মৌমাছির ততক্ষন পর্যন্ত একটি ফুল থেকেও মধু সংগ্রহ করার অধিকার বা ক্ষমতা থাকে না। মৌমাছি যতদূর যায় শ্রমিক মৌমাছির মাথায় দুটু এন্ট্রিনা থাকে আর এই সাহায্যেই রানী মৌমাছি ও শ্রমিক মৌমাছির তথ্য আদানপ্রদান হয়।
শ্রমিক মৌমাছিদের মধ্যে একদল এর দ্বায়িত্ব হলো তারা বাসায় নিরাপত্তা প্রহরীর দ্বায়িত্ব পালন করে। তারপর শ্রমিক মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসার পর সরাসরি তার বাসায় ডুকানোর অনুমতি নাই, তারা গার্ড এর দ্বায়িত্বে যারা আছে তাদের মখে মধু দিয়ে হয়। তারপর গার্ড মৌমাছি সেই মধুগুলো পরীক্ষা করে দেখে মধু খাটি কিনা, যদি খাটি হয় তাহলে তারা সেই মধু বাসায় জমা করে আর যদি খাটি না হয় তাহলে তারা মধু বা নেকটার গুলো ফেলে দেয় এবং যেই শ্রমিক মৌমাছি এটা এনেছে তাকে শান্তি দেয়। প্রত্যেক মৌমাছির রয়েছে আলাদা আলাদা দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য। মৌমাছির নেকটার সংগ্রহ করে আগে খেয়ে ফেলে, সেই কেকটার প্রথমে তাদের পাকস্থলীতে জমা করে, তারপর পাকস্থলী থেকে মেইন পেটে নিয়ে সেখান থেকে বুমি করে। আর সেই বুমিই মুলত মধু।
এই কথাটা এটা তাফসিরে উল্লেখ করা আছে। কোরআনে বলা আছে সমস্ত রোগের মহা ঔষধ হলো মধু।
শ্রমিক মৌমাছির মাথায় যেই এন্ট্রিনা থাকে সেটা তিন কিলোমিটার পর্যন্ত রাণী মৌমাছি শ্রমিক মৌমাছিকে সিগনাল দিতে পারে। সে জন্যে শ্রমিক মৌমাছি মধু সংগ্রহ করার জন্য যেই বাসা থেকে উড়ে যায় ঠিক সেই বাসায়ই ফিরে আসে, অন্য কোনো বাসায় যায় না। ঠিক আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো।
যখন রাণী মৌমাছি বুড়ো হয়ে যায় ডিম দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে শ্রমিক মৌমাছিরা সবাই মিলে তাকে মেরে ফেলে। কারণ তখন রাণী মৌমাছির নেত্রত্ব দেওয়ার মতো কোনো ক্ষমতা থাকে না। মারার জন্য শ্রমিক মৌমাছিরা রাণী মৌমাছিকে চারদিক থেকে গিরে ফেলে এবং সেটা গোল বল এর মতো আকৃতি হয়, তারপর শ্রমিক মৌমাছিরা তাকে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্র দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মৌমাছি মানুষের মতো সামাজিক প্রণি। তাদেরও রয়েছে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি। মৌমাছির মধ্যে আছে একতা, আছে পাওয়ার। মৌমাছির এই জীবনচক্র থেকে অনেক কিছু শিখার আছে আমাদের। প্রিতিটি মৌ বাক্স একএকটি কলোনী, আর প্রতিটি কলোনীতে রয়েছে আলাদা আলাদা শাসন ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা, একতা। তাদেরও রয়েছে ক্ষমতা পালাবদল, রয়েছে নেতৃত্ব।
পুরুষ মৌমাছি হলো সেনাপতি, পুরুষ মৌমাছির পাছায় কোনো ওল থাকে না, তাই পুরুষ মৌমাছি চাইলেও কাউকে কামড় দিয়ে পারবে না। কিন্তু পুরুষ মৌমাছি মানুষকে আক্রমন করার জন্য নেতৃত্ব দেয়। একটা বক্সে / বাসায় যদি ৫ হাজার মৌমাছি থাকে তাহলে একটা পুরুষ মৌমাচি ৫ হাজার মৌমাছিকে নিয়ে একটা সেনাপতি।
রাণী মৌমাছির যেদিন বিয়ে হয়, সেদিন সব পুরুষ মৌমাছি উপরে উড়বে এর মাঝ থেকে যেই মৌমাছিটি সবচেয়ে বেশি সুঠাম দেহের অধিকারী, রাণী মৌমাছির যাকে পছন্দ হবে তার সাথে মিলিত হবে। বাকি যেই পুরুষ মৌমাছি গুলো থাকে তারা এটা মেনে নিতে না পেরে ওখান থেকে জোরে উড়ে এসে বক্সে ধাক্কা খেয়ে আত্মহত্যা করে মারা যায়। কারণ তারা মনে করে যে আমার য্যেগ্যতা নাই। আর রাণী মৌমাছি যেই পুরুষ মৌমাছির সঙ্গে মিলিত হয় সেই পুরুষ মৌমাছিও মারা যায়।
অনেকেই বক্সের মধু যেটাকে আমরা চাষের মধু বলি সেই মধু পছন্দ করে না, মনে করে খাটি না বা ন্যাচারাল না তাই। আসলে মৌমাছি গাছে যেই মধু হয় সেই মধুর জন্য নেকটার যেখান থেকে সংগ্রহ করে বা যেই ভাবে নেকটার সংগ্রহ করে ঠিক বক্সের মধুর ক্ষেত্রে একই ভাই নেকটার সংগ্রহ করে। প্রার্থক্য শুধু গাছে যেই মধু হয় সেখানে অল্প পাওয়া যায় আর বক্সে মৌ চাষ করলে এক জায়গায় অনেক বেশি পাওয়া যায়। সব মধুই ভালো শুধু কেউ ভেজাল না করলেই হয়।
একটি শ্রমিক মৌমাছি বাঁচে গড়ে ৪৫ দিন। তার পুরো জীবদ্দশায় প্রায় দেড় লাখ ফুলে পরাগায়ন করে প্রায় এক চামচ মধু সংগ্রহ বা তৈরি করে। আপনার আমার কাছে এক চামচ মধু হতে পারে কিন্তু একটা মৌমাছির জন্য গোটা জীবনের সাধনা। আর রাণী মৌমাছি বাঁচে গড়ে ৩ বছর।

খাটি মধু কিভাবে চিনবো? খাটি মধু কোথায় পাবো? আসলে মধু নিয়ে মানুষের তর্ক বিতর্কের শেষ নাই। মধু বিতর্কের এমন এক পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে বাবা ছেলেকে বিশ্বাস করতে পারে না। আর মধু নিয়ে এতো বিতর্কের প্রধান কারন হলো আমি মনে করি প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ২জনও ঠিক মতো মধু চিনেনা। মানুষ মধু না চেনার কারনে যতো বিতর্ক। প্রথমত মধু খেয়ে কখনো বুঝা যাবে না মধু খাটি নাকি ভেজাল? মধুর কালার, মধুর ঘ্রাণ, মধুর স্বাদ সম্পূর্ণ নির্ভর করে ফুল এবং সিজনের উপর। মধু নিয়ে সবচেয়ে বির্তক শীতে জমে যাওয়া নিয়ে। সত্যি বলতে মধু জমা না জমা নির্ভর করে ফুল এবং সিজনের উপর। যেমন: সরিষা ফুলের মধু, খলিসা ফুলের মধু, বড়ই ফুলের মধু, সূর্যমূখী, আলফা আলফা, ক্যানোলা, কটন ইত্যাদি ফুলের মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকোজের অনুপাতে উল্লেখিত ফুলের মধুতে গ্লুকোজ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই এই মধুগুলো শীতের সময় জমে যায়।
আমরা সরাসরি মৌয়ালদের সাথে উপস্থিত থেকে মধু সংগ্রহ করে সারা দেশে কুরিয়ারের মাধ্যমে হোক ডেলিভারি করে থাকি। আমরা শতভাগ খাটি মধুর নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যবসা করে আসছি। শতভাগ খাটি নির্ভেজাল মধু অর্ডার করতে যোগাযোগ আমাদের মোবাইল নাম্বার 01683290608 অথবা ফেসবুক পেইজ Six Season Mart